দৃষ্টিপাতের শব্দার্থ : ০১
তোমার আকাশ দু’চোখ থেকে
টাপুর টুপুর ছিটে ফোটা বাদল
এই প্রথম আমি অনুভব করি।
তোমার দৃষ্টিপাতের শব্দার্থ নিয়ে
মৌনমুহূর্তে মৃন্ময় ডেরায় বসে
আমি প্রেমের খ- অভিধান খুলি
আর বিশিষ্টার্থক কিছু শব্দ খুঁজি...
ভালোবাসা কী দৃষ্টিপাতের বিনিময়।
দৃষ্টিপাতের শব্দার্থ : ০২
দৃষ্টি মন ধনুকের তীরে তীরে
তীরের আলিঙ্গন
দৃষ্টি মনের কথা চোখের তারায়
পুনঃ প্রশিক্ষণ।
দৃষ্টি পথ চলায় দেখি দেখায়
মনেরই আয়না
দৃষ্টি মনের কথা যার যেমন তা
ধরে রে বায়না।
দৃষ্টি যার ভাবনা যেমন তাকে
ভাবায় রে তেমনি
দৃষ্টি সরল বাঁকা অন্তর আঁকা
দিন আর রজনী।
দৃষ্টি দৃষ্টিপাতের শব্দার্থ
অর্থের লেনাদেনা
দৃষ্টি দৃষ্টি দিয়ে দৃষ্টি মানুষ
কাউকে দেয় রে চেনা।
দৃষ্টিপাতের শব্দার্থ : ০৩
ফিরতি দৃষ্টির গর্ভে আপাত্য শব্দরা
ভালোবাসার পুঙক্তিমালায় চিন্তার দীর্ঘ পথ হাঁটে।
নিশিকাব্যের সুরে জানালার শার্শি ছিঁড়ে
উদ্ধিঘœ ঘুমেরা চোখের পাতায়
জুট-ঝামেলা করে না।
এপাশ ওপাশ ইতিউতি আর চিরকুট ছেঁড়ার শব্দে
লজ্জাবতী রাত নিয়ম ভাঙ্গে
আবার উদ্দেশ্যের ভগ্নাংশ সাক্ষাৎ নেশায়
ক্লান্তিযুক্ত পথÑ শাখা-প্রশাখা পথÑ উপপথে হাঁটা।
কারো সাথে কারো মুখোমুখি
দেখাদেখি পরস্পর বাক্য বিনিময়
পুনরাবৃত্তি,হাসি...এই তো ভালোবাসা
দৃষ্টিপাতের শব্দার্থে অনুভূতির চাষাবাদ।
দৃষ্টিপাতের শব্দার্থ : ০৪
দৃষ্টির বলয় ঠোঁটে হাসির ঢেউ
এমন উপলব্দি জড়িত অন্তরে
ভালোবাসার ঝরঝরে খুদ
সোহাগী পাতিলে ফুটফুট ফেনা ভাঙ্গে কামনার জলে।
দৃশ্যান্তর। পুর্বানুভূতির খোয়াড়ে
সাত রঙে মিশে যে মন আকাঙ্খার বীজ বুনেছিলো একদিন
লাস্যময়ী; সমর্পিত আখ্যানগীতি গায়।
শেষ দৃশ্য।...অবশেষে স্বরালাপের মুদ্রায় অনুসারী মন
‘হারানো হিয়ায় নিকুঞ্জ পথে কুড়াই ঝরাফুল একেলা আমি’...
দৃষ্টিপাতের শব্দার্থ : ০৫
দৃষ্টি শুমারী বার বার দৃষ্টিতে দেখে
বুকে সাটানো ধ্যানী মুখ আর
আকাঙ্খার সাঁকোয় হেঁটে বিনিময় গাঢ় ইচ্ছারা
স্বপ্নরঙ ডানায় নিয়ে উড়ে উড়ে
উড়ে উড়ে যায়
ধ্যানী মানুষের অন্তর পাড়ায়।
দৃষ্টিপাতের শব্দার্থে তুমি তুমি
এবং তুমি নামক প্রার্থনা ঢেউ উছলে ওঠে
ঘুম ও নির্ঘুম প্রহরে।